স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া মা ও ছেলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হওয়ার পর পুলিশ পরিবারের হাতে মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছে।
এদিকে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা- তা এখনও নিশ্চিত হয়নি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত সন্দেহ করা হয়নি।
শনিবার (৮ জুলাই) রাত নয়টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় করুণ ঘটনাটি ঘটে। প্রতিবেশিরা দেখতে পান, নিজেদের ঘরের মধ্যে ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩২) ও তার ছেলে জিসানের (৬) মরদেহ পড়ে রয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানিয়েছেন, গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে স্থানীয় পশু চিকিৎসক আক্তার হোসেন সর্বপ্রথম জানতে পারেন জাকিরের স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ খাটের ওপর পড়ে আছে। তিনি দেখতে পান, খাটের ওপর শিশু জিসানের হাত ও পা গামছা দিয়ে বাঁধা আছে। একই খাটে জিসানের মা জুবায়দার গলায় ওড়না পেঁচানো। তবে ওড়নার দুই প্রান্ত জুবায়দার দুই হাতে ধরা আছে। এরপর তিনি জিসানের বাবা জাকির হোসেনকে খবর দেন। জাকির হোসেন সে সময় বহরামপুর বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।
সংবাদ পেয়ে রাত দশটার দিকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। সেখানে থানার উপ-পরিদর্শক পলাশকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। তার কাছে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা নয়’ বলে সন্দেহ হয়। পরে লাশ দুটি উদ্ধার করে রাতেই যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট লাশ দুইটির ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
জুবায়দার ছোট বোন পিঞ্জিরা জানিয়েছেন, জাকির দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। এক বছর আগে তিনি বাড়িতে এসেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিলো না।