ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জীবন নামে এক ভ্যানচালককে আটক করেছে ইবি থানা পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি ইজিবাইকে যাচ্ছিল। অভিযুক্ত জীবন নিজের ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় ক্যাম্পাসের পাশের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি দেখে এক ইজিবাইক চালক উপস্থিত অন্যদের বিষয়টি সমাধান করার অনুরোধ জানিয়ে চলে যান। কারণ, সে সময় দুজনই ওই ফোনটি নিজের বলে দাবি করছিল। উপস্থিত লোকজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ইবি টিএসসির বাথরুমে নিয়ে বলাৎকার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত জীবন ইবি ক্যাম্পাসে নিয়মিত ভ্যান চালান। অন্যদিকে ৮-৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুটি ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করে। সে কুষ্টিয়ার কুমারখালী স্টেশন মোড় এলাকায় থাকে। বুধবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুবাদে সুযোগ বুঝে শিশুটিকে ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল দেওয়ার কথা বলে বাথরুমে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপর তাকে মাত্র ৫০ টাকা দেওয়া হলেও কথা অনুযায়ী বাকি টাকা ও মোবাইল ফোন দেয়নি অভিযুক্ত জীবন। সেই ফোন নিয়েই পরবর্তীতে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।
ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয় ইবি থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত জীবন এর আগেও এক শিশুকে একইভাবে নির্যাতন করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কম আজকে। সংশ্লিষ্ট দুজনেই প্রতিবন্ধী। টাকা ও মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার পরই পুলিশসমেত ভুক্তভোগীকে মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়েছি এবং পরবর্তীতে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে মেডিকেল টেস্টের জন্য হসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হবে।
ভিকটিমের শিশুটির পরিবারকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পাওয়া গেলে তারা বাদী হয়ে মামলা করবেন। তা না হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে, জানান ওসি।