খুলনা অফিস
পরিচয় বদলে কখনও ভারতে, আবার কখনও কুয়েতে—এভাবে প্রায় ২৭ বছর আত্মগোপনে ছিলেন জয়নাল সরদার (৫৫)। শেষ পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এরশাদ শিকদারের সহযোগী ও একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জয়নালকে শনিবার রাতে এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৮ বরিশালের যৌথ দল গ্রেপ্তার করে।
জয়নাল বরিশালের গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-৬ খুলনার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়নাল সরদারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে খুলনার রূপসা থানায় জয়নালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। মামলাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে হত্যার অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া লাশ গুমের অপরাধে তাকে পৃথকভাবে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেপ্তার জয়নালকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন মোট আটজন। তাদের মধ্যে এরশাদ শিকদার ছিলেন এক নম্বর আসামি।