স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে অনিকা দাস (২৪) নামে এক গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, অনিকাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই স্বামী ও তার পরিবার বিষ পান করিয়েছে। যে কারণে চিকিৎসার নামে অনিকার সাথে প্রহসন করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
শনিবার (১৪ মার্চ শনিবার) বিকেলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অনিকা দাস যশোর সদরের ফতেপুর এলাকার শুভঙ্কর দাসের স্ত্রী।
নিহতের ভাই প্রদীপ জানিয়েছেন, পহেলা মার্চ সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর নির্যাতনের জেরে বিষপান করেন অনিকা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
গত ১৩ মার্চ অনিকাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় স্বামী। এতে তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ইন্টার্ন ডাক্তার রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, আনিকা বিষ পানের কারণে লাংস নষ্ট হয়ে যায়। এর উপর শারীরিক নির্যাতনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত কোতোয়ালি থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, নিহত স্বজনরা অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।