কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় পুলিশের এএসপি (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের আড়পাড়া দরগার পশ্চিমপাশে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিনই রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ শিবলু ও মিলন হোসেন নামে দুইজনকে আটক করে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় শুক্রবার জখম সবেক এএসপির ছেলে আশরাফুল আলম রানা কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় মো. রিপন, মো. শিবলু, মো. মিলন হোসেন, নাজমুল হোসেন, নাজমা বেগম ও মো. কাজলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ আড়পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার বাবা স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এ কারণে অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আনোয়ার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা লাঠি, কাঠের বাটাম ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে আহত করে। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত ধারালো রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর জখম হন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রানার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারুফা আক্তার মিতু, মা আশাতারা পারভীন, বোন হীরা খাতুন, চাচি নাজমা বেগম ও চাচাতো ভাবি সালমা বেগমকেও মারধর করা হয়। পরে আহত আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে আটক করে। আহত ব্যক্তির ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।