যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কেজিতে বিক্রি আর্টিলারি শেল, ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি,২০২৬, ১১:২৮ পিএম
কেজিতে বিক্রি আর্টিলারি শেল, ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

পরিত্যক্ত লোহা ভেবে ১৭ কেজি ওজনের আর্টিলারি শেল ভাংড়ি দোকানির কাছে বিক্রি করেন এক নারী। বিক্রির দুইদিন পরে বস্তুটিকে বোমা জাতীয় কিছু ভেবে ভয়ে আবার ওই নারীকে ফিরিয়ে দেন ভাংড়ি ব্যবসায়ী। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। পরে সেটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সেনাবাহিনীকে খবর দিলে সেনা সদস্যরা সেটিকে ধ্বংস করে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী এলাকায়।

জানা যায়, গত ১৫ বছর আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা আসমত উল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় পাখি খাতুনের। এটা ছিল আসমত আলীর দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ঘরে একটি লোহার বস্তু দেখতে পান পাখি খাতুন। স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিকে বিক্রির কথা ভাবেন তিনি। কিন্তু লোক না পাওয়ায় বিক্রি করা হচ্ছিল না।

গত সপ্তাহে বাড়ির ওপর আসেন এক ভাঙারি ব্যবসায়ী। তার কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দেন লোহার ওই বস্তুটি। ওজন হয় ১৭ কেজি। কিন্তু ওই বস্তুটি যে বোমা জাতীয় কিছু, সেটা চিনতে পেরে ভয় পেয়ে গত পরশু বস্তুটি আবার পাখী খাতুনকে ফিরিয়ে দিয়ে যান ওই ভাঙারি ব্যবসায়ী। এরপর ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খবর পায় দৌলতপুর থানা পুলিশ। তারা এসে বস্তুটি দেখে খবর দেন সেনাসদস্যদের। খবর পেয়ে শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গ্রামের সর্দারপাড়া এলাকায় যান সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল।

তারা জানান, এটি একটি পুরোনো অবিস্ফোরিত সেল। সেটা অনেক শক্তিশালী। পরে অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলটি উদ্ধার করে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দৌলতখালী গ্রামের আর্টিলারি ডিভিশনের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা (মৃত) আসমত উল্লাহর বসতবাড়ি থেকে আর্টিলারি শেলটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত আসমত উল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রী পাখি খাতুন বলেন, ‘আমার বিয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর। আমি এখানে আসার পর থেকেই এই বস্তুটি ঘরে পড়ে থাকতে দেখেছি। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর একসময় এটিকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ টাকা দরে ১৭ কেজি ওজন হিসেবে বিক্রি করি।

পরে ভাঙারি ব্যবসায়ী এটি বিপজ্জনক মনে করে আবার আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। এরপর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে গত মঙ্গলবার স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে জানাই।’

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ময়নাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিষয়টি জানার পরপরই আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, উদ্ধার করা মর্টার শেলের বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে সেনাবাহিনীর ডিসপোজাল টিম রাত থেকেই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার সময় নিরাপদে মর্টার শেলটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা ১৭ সদস্যের বোমা ডিসপোজাল টিম এই ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এসময় দৌলতপুর সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মানসুর জানান, পরিত্যক্ত মর্টার শেলটি বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তায় তা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণ হয়। কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মর্টার শেলটির উচ্চতা প্রায় ২৪ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৭ কেজি। ধারণা করা হচ্ছে এটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহার হয়েছিল। তবে এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিলো।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)