যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে জালিয়াতি!

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ১ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আপডেট : শনিবার, ১ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে জালিয়াতি!

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কচুবাড়িয়ায় জাল দলিল ব্যবহার করে জমি নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ কাজে ভূমি অফিসের নায়েব ও এসিল্যান্ড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত। তারা লোহাগড়ার একটি শক্তিশালী ভূমি জালিয়াতচক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, শহরের ৯৬ নম্বর কচুবাড়িয়া মৌজায় আরএস ২৫৯ নং খতিয়ান থেকে সুভাস চন্দ্র দাস ১৯৯৭ সালের ১৩ মার্চ ১২২৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে খোকন কুমার দাসের কাছ থেকে ৬১ শতক জমি খরিদ করেন। দলিলে উল্লিখিত আরএস ২৫৯ নং খতিয়ানের দুটি দাগে সর্বমোট ২০ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক মফিজুর রহমান।

উক্ত দলিলে গ্রহীতা সুভাস চন্দ্র দাস একই মৌজার আরএস ২৬২ নম্বর খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১২২৪ নম্বর ভিন্ন একটি দলিল তৈরি করেন। এরপর চক্রটি এসিল্যান্ড ও ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিগত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর নামজারির (কেস নম্বর ৮৯১/১৯-২০) মাধ্যমে সর্বমোট ১৯টি দাগের ৮৯ শতক জমি নায়েব মোল্যা মো. হায়দার আলীর প্রতিবেদনে শুনানি ছাড়া একতরফা অতি গোপনে পৃথক ৯০৩ নম্বর নামজারি খতিয়ানভুক্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুকুল কুমার মৈত্র। ওই খতিয়ানে বিবেকানন্দ দাসের একাধিক দাগ ও জগন্নাথ পালের কেনা তিন শতক জমি ২০০৭ সালে নামজারি ২৬২/১ পৃথক খতিয়ানভুক্ত করে কর-খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। অথচ, এই এই জালিয়াতির খতিয়ানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। বাদ যায়নি ২১১ নং দাগের সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি। সরকারি কাঁচা রাস্তা অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে ব্যক্তি মালিকানার এই খতিয়ানে।

অপরদিকে, পৈতৃক ও ওয়ারেশ সূত্রে স্বত্ত্বপ্রাপ্ত দাবি করে বিবেকানন্দ দাস ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর নড়াইলের লোহাগড়া সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানি ৯৪/০৯ মামলায় ৯৯টি দাগে ৪ একর ৩৭ শতক জমি ফোর সেকশন পার্টিশন স্যুট এবং ২৩ শতকের ওপর আমানত উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন আদালত।

আদালতের উক্ত নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০২৫ সালের ২ মে মিউটেশন কেস নম্বর ৭৯৮৯/২৪-২৫, নালিশি ১৩টি দাগের এক একর সাড়ে ৩৭ শতক জমি লক্ষ্মীপাশা ভূমি অফিসের নায়েব শেখ মো. আব্দুল মোতালেবের প্রতিবেদনে নাজির, কানুনগো ও অফিস সহকারীর সহযোগিতায় শুনানি ছাড়া একতরফা অতি গোপনে পৃথক নামজারি (২৫-১৮৬৭ নং) খতিয়ানভুক্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র।

নামজারি দুটি বাতিল চেয়ে ভূমি আইনের ১৫০ ধারায় বিবেকানন্দ দাস বাদী হয়ে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর মিস কেস দায়ের করেন। যার নম্বর ৯১/২৬ ও ৯৫/২৬। উভয় পক্ষের আইনজীবীসহ গত ২৬ জুলাই দুটি মিস কেসের শুনানির দিন ধার্য করেন লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা। ধার্য তারিখে বাদী-বিবাদী উপস্থিত থাকলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপস্থিত থাকায় ওইদিন শুনানি হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুকুল কুমার মৈত্র ও মিঠুন মৈত্র দু’জন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। উভয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার রামদিয়া গ্রামে। লোহাগড়া এলাকায় কথিত রয়েছে, নিজ নিজ দায়িত্বে থাকাকালে টাকার বিনিময়ে এহেন অপকর্ম নেই যে, চাচা-ভাতিজা করেননি। তাদের দুর্নীতির বিষয়ে একাধিকবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহার কাছে জাল দলিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে করা নামজারি বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)