সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
অবশেষে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের মানুষের। দরমুড়াগাছা থেকে কলাগাছি গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি এলাকায় এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
খেশরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শিবপদ সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, একটি অঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম, ক্ষমতায় এলে আগে কলাগাছি গ্রামের রাস্তাটি নির্মাণ করব। আমি কথা রেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।
সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এ সময় তিনি দরমুড়াগাছা ও রাজাপুর গ্রামে দুটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খেশরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার ময়নূল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার গাজী, সাবেক চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, তালা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিব, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান সাগর, কলাগাছি গ্রামের বিএনপি নেতা পলাশ মণ্ডল, কমলেশ সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কলাগাছির সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় ছিল। বর্ষা মৌসুমে সড়কজুড়ে হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় রোগীকে খাটিয়া বা ভ্যানে করে কাদাপানি পেরিয়ে মূল সড়কে নিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি টেকসই সড়কের দাবি জানিয়ে এলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে নতুন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বর্ষাকালেও নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করবে এবং এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন তারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, সরকারি নকশা ও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় কারিগরি তদারকি থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।