যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ১২ আগস্ট,২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট,২০২৬, ১০:৫০ পিএম
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা

সকাল থেকেই দোকান খোলা। সামনে বড় ফটোকপি মেশিন, মেশিনের সামনে বসে আছে অপারেটর। পাশের টেবিলে কম্পিউটার নিয়ে বসে আছে আরেকজন। মাথার ওপর বৈদ্যুতিক পাখাটিও থেমে আছে। কাজের জন্য সব প্রস্তুতি আছে, শুধু নেই বিদ্যুৎ। ফলে, মেশিনের শব্দের বদলে দোকানে এখন নীরবতা। কাজের অপেক্ষায় বসে আছেন কর্মীরা, আর বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থমকে আছে তাদের পুরো কর্মদিবস।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন চিত্র এখন ঝিনাইদহের অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল এসব দোকান লোডশেডিংয়ে কাজ বন্ধ।

শহরের অনেক ফটোকপি, কম্পিউটার ও অনলাইন সেবার দোকান, সেলুন, ফ্রিজ ও আইসক্রিমের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের দোকান খোলা রেখেও কোনো কাজ থাকে না।

দোকানিরা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন আর শুধু কয়েক ঘণ্টার সমস্যা না। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে তাদের আয়ের ওপর আঘাত করছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, ইন্টারনেট বিলসহ অন্যান্য খরচ ঠিকই দিতে হচ্ছে।

দোকানি আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সকালে দোকান খুলে বসে আছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালাতে পারি না। কাস্টমাররা সময় অপেক্ষা করতে না পেরে অনেকে চলে যাচ্ছে। পরে বিদ্যুৎ এলেও ওই কাস্টমারকে আর পাওয়া যায় না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যেখানে আয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা, বর্তমানে সেখানে এক হাজার টাকাও আয় হচ্ছে না।’

অপর ব্যবসায়ী মাসুদ হাসান বলেন, ‘আমার দোকানে একসঙ্গে কয়েকটি মেশিন চলে। বিদ্যুৎ না থাকলে সব বন্ধ। আইপিএস দিয়ে কিছু সময় চালানো যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে সেটিও টেকে না।’

দোকান কর্মচারী হৃদয় হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে সারাদিন কাজের চাপ থাকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সবাই বসে থাকি। কাস্টমার এসে জিজ্ঞেস করে কখন বিদ্যুৎ আসবে, তার চলে যায়।

ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে সেলুন ব্যবসায়ও। বৈদ্যুতিক মেশিন চালানো, ফ্যান চালানো দুটিই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেলুন দোকানি দিলীপ দাস আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চালাই। এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে সংসারের হিসাবও এলোমেলো হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুক্ত গীন বলেন, ‘জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ২৯ মেগাওয়াট। ফলে, চাহিদার তুলনায় প্রায় দশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)