খুলনা অফিস
খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত গুমের শিকার হয়ে যারা ফিরে আসেননি, অবিলম্বে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
একইসঙ্গে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে। আর গুমের শিকার কেউ জীবিত না থাকলে সেটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবার জানাতে হবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং গুমের সংস্কৃতি ফিরে আসবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২'র ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে বিতর্কহীন একটি সুন্দর আইন প্রণয়ন ও তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে।
রোববার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব ও অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান সংগঠনের খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে একজন জেলে ও মোটরসাইকেল রাইডারকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে সরকারকে এ ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মিরাজকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
সমাবেশে আরও বলা হয়, গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। গত ২৭ আগস্ট এই খসড়া আইনের কিছুটা পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়।
এই আইনের ১৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী পরিচালনা করতে পারবে না এবং সেক্ষেত্রে সরকার উক্ত অভিযোগের তদন্তভার অভিযুক্ত বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনীর তদন্ত দলের কাছে অর্পণ করতে পারবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ পুলিশসহ যেকোনো শৃঙ্খলাবহিনী কর্তৃক গুমের তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হবে।
অন্যদিকে, এই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের মধ্য দিয়ে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে, তা বিচারহীনতার পথকে আরো প্রশস্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে গুমের অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত হবে।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি যথাক্রমে গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দেওয়া এবং তা আইনে উল্লেখ, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা এবং যে সমস্ত ব্যক্তি গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ও দৈনিক আমার দেশের ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জিএম রাসেল ইসলাম, জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো ইমরান হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হান্নান, অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক বাপ্পি খাঁন, বীমা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রায়হান মোল্লা, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মুজাহিদুর রহমান, মিশারুল ইসলাম মনির, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্নিগ্ধা সুলতানা মুন্নি, নাবা আক্তার শারমিন, গালিব হাসান প্রমুখ।