স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সুবর্ণভূমি-
ছবি:
যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের অটো রাইস মিলে মুখোশধারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল মুখোশধারী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের তালা ভাঙার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। স্বজন ও বিএনপি নেতাদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৫৩ মিনিটে যশোর সদর উপজেলার ১ নম্বর হৈবতপুর ইউনিয়নে আব্দুস সালামের অটো রাইস মিলে এ ঘটনা ঘটে।
আব্দুস সালাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের অটো রাইস মিলে রাতযাপন করতেন। তবে ঘটনার দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়িতে ছিলেন। রাত ২টা ৫৩ মিনিটের দিকে ১১ জনের একটি মুখোশধারী দল তার রাইস মিলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তার শয়নকক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মুখোশধারীরা রাইস মিলে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সালামের ভাই বুলবুল জানান, খবর পেয়ে শনিবার সকালে যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনের নেতৃত্বে আরেকটি দল সেখানে যায় এবং আব্দুস সালামের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতারা জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেও দাবি করেছে সূত্রটি। তবে ওই ইউনিয়নে আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্রটির দাবি, নির্বাচনে আব্দুস সালামকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে। এ কারণে রাজনৈতিক বা নির্বাচনী বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কেউ এ ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।