লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়ায় মাছ ব্যবসায়ী রবিউল মোল্যাকে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে 'মিথ্যা ও হয়রানিমূলক' দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম মোল্যা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের সিডি বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। রবিউল মোল্যা জয়পুর ইউনিয়নের চাচই চরপাড়া গ্রামের জামির মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রবিউল মোল্যা অভিযোগ করেন, ‘গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে আটটার দিকে আলামুন্সির মোড় থেকে মাছ বিক্রি করে ইজিবাইকে বাড়ি ফেরার পথে চরআড়িয়ারা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে চাচই চরপাড়া গ্রামের নবীর শেখের ছেলে জামায়েত শেখ, জুয়েল মাস্টারের ছেলে নাঈম শেখসহ ৪/৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করেন। এ সময় তারা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও মাছ বিক্রির ৫৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।’
রবিউল মোল্যার দাবি, হামলার একপর্যায়ে ওই দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পকেটে ১০টি ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে দেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, 'আমি একজন মাছ ব্যবসায়ী। আমি ধূমপান করি না। মাদক বা ইয়াবা সেবনের প্রশ্নই ওঠে না। মাছ শিকার ও বিক্রি করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমার পিতার সঙ্গে পূর্ববিরোধের জের ধরে আমাকে মারধর করে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।'
রবিউল মোল্যা আরও জানান, ওই মামলায় তাকে ১৮ দিন নড়াইলের জেল-হাজতে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যাহার, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী রবিউলের বাবা জামির মোল্যা, মা পলি বেগম, চাচা মাফুজার মোল্যা ও মোজাহের মোল্যা।
তবে রবিউল মোল্যার এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।