যশোরে আইবিডব্লিউএফের ব্যবসায়ী সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, দেশে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে গেলে যেমন সরকার দরকার আমরা সেই ধরনের সরকার পাইনি। দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সংকট রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে সাতটি সার কারখানার মধ্যে একটিমাত্র চালু আছে। বাকি ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডাব্লিউএফ) উদ্যোগে এক ব্যবসায়ী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন তিনি।
সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, ব্যবসায়িক উন্নয়ন ও আজীবন সদস্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আইবিডব্লিউএফ যশোর জেলা শাখার সভাপতি মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবিদ হাসান এবং যশোর-কুষ্টিয়া জোনের সভাপতি আবদুল মতিন।
উপস্থিত ছিলেন উদ্যোক্তা মো: বাদল, মীর মুরাদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হক। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দেশে ৭০ লাখ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে। আগে প্রায় ৬০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হতো। বর্তমানে ১১-১২ হাজার টন সার উৎপাদন হয়। বাকি সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এই খাতে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এর প্রভাব জনগণের ওপর গিয়ে পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বাড়ছে, যানবাহন, যাতায়াত ও যোগাযোগের খরচ বাড়ছে। কারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ছে। সর্বোপরি জনগণের ওপর এর বোঝা গিয়ে পড়ছে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা গড়তে ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন। কিন্তু দেশের ব্যাংকিং সেক্টর এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
গোলাম রসুল এমপি আরও বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের মতো শত শত যুবকের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ন্যায়বিচারের জন্য নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য তারা জীবন দিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সুন্দর সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল, আমরা আর দুর্নীতির সম্মুখীন হবো না, দলীয়করণের সম্মুখীন হবো না। সমতা, ন্যায়পরায়ণতা ফিরে পাবো। এদেশে সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সবকিছু মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু সেই আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি।’
সমাবেশের অন্য বক্তারা ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও একে অপরের সহযোগিতায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া ব্যবসায়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘টাকা মাত্র দশ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ শীর্ষক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।