শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর হাজরাখালী এলাকায় বালুভর্তি একটি কার্গো পুলিশ যাওয়ার আগেই যুবদলের একজন বহিষ্কৃৃত নেতা সেটি নিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা ওই বালুভর্তি কার্গো আটকে প্রশাসনকে খবর দেয়। ঘটনাটি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী রিসোর্ট খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকার।
স্থানীয়রা জানায়, কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের মহেশ্বরখাটি এলাকার ওমর আলীর মালিকানাধীন একটি কর্গো ছয়জন শ্রমিক নিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। তখন এলাকাবাসী বালুভর্তি কার্গোটি আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে আশাশুনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আশাশুনি উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) শরিফ আহসান টোকন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাদিক আনোয়ার ছোট্টসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে আটক কার্গোটি নিয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি, উল্লিখিতদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে আশাশুনী ও শ্যামনগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিদিন রাতের বেলায় ওমর আলীসহ আরো তিনটি কার্গোয় বালু উত্তোলন করে আসছে। কেউ বাধা দিলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়।
শ্রীউলা এলাকার আব্দুর রহমানসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, গত এক মাসে এই চক্র কোটি টাকার বালু উত্তোলন করেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফ আহসান টোকন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আর যাদের নাম বলছেন- ওনারা আলাদা গ্রুপ।’
তবে, অভিযুক্ত সাদিক আনোয়ার ছোট্টর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপংকার দিপু জানান, আমি পরিষদ থেকে যাওয়ার আগে আশাশুনির যারা বালুর ব্যবসা করে তারা নিয়ে চলে গেছিলো। থানার থেকে পুলিশও আসছিলো।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা কার্গোটি ছেড়ে দেন। তারপরও পুলিশ তাদের ধরার জন্য চেষ্টা করছে। আমরা জানতে পারছি, কার্গোটি মানিকখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আছে।’