যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৬ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

এলজিইডির কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ৬ মে,২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
এলজিইডির কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে চলমান একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, নিম্নমানের কাজ ও তদারকির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি, আবার কোথাও বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের উদাসীনতা ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প তালিকার ৩০ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ঝামারঘোপ এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর এবং শেষ হওয়ার কথা ২২ অক্টোবর ২০২৬ সালে।

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৪ টাকা। কাজটি পেয়েছে রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকার বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

তবে চলতি সপ্তাহের শনিবার (২ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করে বর্ষা মৌসুমে ধীরগতিতে কাজ করায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, ঠিকাদারদের অবহেলা আর এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

একই তালিকার ৩১ নম্বর প্রকল্প পাঁচুড়িয়া সড়কের কাজের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, তালিকার ৩২ নম্বর প্রকল্প অনুযায়ী নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী-শুলটিয়া-ছত্রহাজারী বাজার সড়কের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ এপ্রিল ২০২৬। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার ১৮ দিন পরেও কাজ শেষ হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রকল্পটিও পেয়েছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। ৩১ ও ৩২ নম্বর—দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এদিকে, তালিকার ৪০ নম্বর প্রকল্প অনুযায়ী নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ৫ জুন ২০২৫ এবং শেষ হওয়ার কথা ২০ এপ্রিল ২০২৬। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৩০ টাকা। কাজটি পেয়েছে এসএম তাসিন এন্টারপ্রাইজ।

তবে, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। বাস্তবে অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ হলেও তালিকায় দেখানো হয়েছে ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এলজিইডি অফিসেই জবাবদিহি করি, আপনাদের কাছে জবাব দিতে বাধ্য নই।

এছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

এসব এলাকার বাসিন্দা বাবলু মোল্লা, দাউদ মৃধা, রাহুল মোল্লা বলেন, তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ছয় মাস না যেতেই রাস্তা ও অবকাঠামো বেহাল হয়ে পড়ে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি কাজী আবু সাঈদ মো. জসিম বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে থাকি। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাতে দেরি করে এবং এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)