কারীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের কাজ স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। ১৮ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১৪ জুলাই অনলাইনে এবং ১৫ জুলাই দৈনিক সুবর্ণভূমিতে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর কারা অপসারণ করছে কেউ জানে না’ শিরোনামে প্রথম সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
বীরশ্রেষ্ঠের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের সময় পরিবারের অনুমতি নেওয়া হলেও অপসারণের আগে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
পরে জানানো হয়েছে, এটি শহীদ মিনারের পাশের গোলচত্বরে স্থাপন করা হতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, ভাস্কর্যটি অন্য কোথাও নয়, আগের স্থান অর্থাৎ শহরের প্রবেশমুখেই পুনঃস্থাপন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ ও বিকৃত অবস্থায় ছিল, যা বীরশ্রেষ্ঠের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমালোচনার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আপাতত অপসারণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হলেও ভাস্কর্যের কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্তের কারণ, প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নীরবতাই বিতর্কের মূল কারণ। তাদের মতে, জাতীয় বীরের স্মৃতিবিজড়িত এমন স্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, সংবেদনশীলতা ও জনসংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।