বাগেরহাট প্রতিনিধি
একটি টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারী অবশেষে ফিরে গেছেন পরিবারের কাছে। শনিবার মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে স্বজনরা তাকে রাবেয়া আক্তার হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
রাবেয়া রুহুল আমিন ও সায়েরা বেগম দম্পতির মেয়ে। স্বজনরা জানান, পারিবারিক সংকট, দারিদ্র্য ও স্বামীর অবহেলায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। গত ১৮ জুন তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার ছয় মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যে মায়ের অনুপস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
গত ৫ জুলাই মোংলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পায়ে লোহার শিকল বাঁধা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমসহ রাবেয়াকে উদ্ধার করেন স্থানীয় যুবক রাজু। পরে তাকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিচয় না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম শাহরিয়ার ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার সময় রাবেয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
টানা ১৪ দিনের চিকিৎসায় তার অবস্থার উন্নতি হয়। প্রথমে তিনি নিজের পরিচয় আংশিক জানাতে পারলেও পরে মানসিক ট্রমার কারণে তা আর মনে করতে পারেননি।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারের পর পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে শনিবার হাসপাতালে এসে তাকে শনাক্ত করেন।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমী বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে পরিবারকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্বজনদের ধারণা, বাড়ি ছাড়ার পর কোনো একসময় বাস থেকে পড়ে বা ধাক্কা খেয়ে রাবেয়া আহত হন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, সুস্থ হয়ে রাবেয়া আবারও ছয় মাসের সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।