যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঝিকরগাছায় স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ

জেলা কার্যালয়ে তিনবার প্রতিবেদনের পরও প্রতিকার নেই

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ১ আগস্ট,২০২৬, ১১:০০ এ এম
ঝিকরগাছায় স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী এনজিও সুশীলন-এর বিরুদ্ধে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নমানের ও কম ওজনের কলা, ছোট আকারের ডিম এবং নিম্নমানের এমনকী রং পরিবর্তিত পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার লিখিত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল, ২১ মে ও ৩০ জুলাই যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো পৃথক তিনটি প্রতিবেদনে ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির নানা অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা কলা, ডিম ও পাউরুটির মান এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শুরু থেকেই অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে অনেক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি সরবরাহ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পাউরুটির রংও পরিবর্তিত হয়ে যায়। গত ১৫ জুলাই উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে এমন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কলার ওজন ১০০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কলার ওজন পাওয়া গেছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম। শুধু তাই নয়, বিতরণের নির্ধারিত সময়ের তিন থেকে চার দিন আগেই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কলা পৌঁছে দেওয়ায় সেগুলো পচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিম সরবরাহের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মান ও আকার বজায় রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে ছোট আকারের ও নিম্নমানের ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়াতেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালীয়ার রহমান বলেন, ‘নিম্নমানের ও কম ওজনের কলা, ছোট আকারের ডিম, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পাউরুটিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। জেলা পর্যায় থেকেও সংশ্লিষ্ট এনজিওকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুশীলন-এর প্রতিনিধি জাবেদ আলীর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে খাদ্যসামগ্রীর মান, ওজন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)