ব্যাহত খেলাধুলা ও ব্যবহারিক ক্লাস
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা ও কাদায় পরিণত হচ্ছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। ফলে খেলাধুলার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস এবং মাঠভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে মাঠের নিয়মিত পরিচর্যা ও ঘাস না কাটার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত সংস্কার ও আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট-বড় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কাদা এতটাই বেশি যে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠের মধ্যভাগজুড়ে পুরু কাদার স্তর জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে ঘাস অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেছে। ভলিবল খেলার নির্ধারিত স্থানেও পানি জমে রয়েছে এবং বড় ঘাস জন্মে থাকায় সেটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রীয় মাঠ থাকলেও সেটি বছরের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যবহারযোগ্য থাকে না। অল্প বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যাওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা, অনুশীলন এবং পিইএসএস বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস ব্যাহত হয়। একই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালিত হওয়ায় প্রায়ই স্থানসংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকিরও সৃষ্টি হয়।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন হোসাইন বলেন, ‘মাঠটি নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় এবং দীর্ঘদিন খেলাধুলার অনুপযোগী থাকে। দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমের উপযোগী করার দাবি জানাই।’
এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকন তালুকদার বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য কেন্দ্রীয় মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিয়মিত ঘাস কাটা হয় না, বৃষ্টিতে মাঠ কাদায় পরিণত হয়। একই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও থাকে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা, মাঠ সমতলকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং বিকল্প খেলার মাঠ নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মাঠ সংস্কার করা উচিত।’
পিইএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী অসীম রায় বলেন, ‘বড় ঘাস ও কাদার কারণে আমাদের ব্যবহারিক ক্লাসও ব্যাহত হয়। একই মাঠে ক্লাস ও খেলাধুলা চলায় প্রায়ই জায়গা সংকট তৈরি হয়। ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য আলাদা মাঠ বা নির্ধারিত স্থান এবং কেন্দ্রীয় মাঠের দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’
তবে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. শাহেদুর রহমান বলেন, ‘মাঠের পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব আমাদের দপ্তরের নয়। খেলা বা টুর্নামেন্ট চলাকালে মাঠের কন্ডিশন ঠিক রেখে খেলা পরিচালনা করাই আমাদের দায়িত্ব। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে। তবে কাজের পরিধি ও বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর বাস্তবায়নের সময় নির্ভর করবে। মাঠ সমতল করতে কী পরিমাণ মাটি লাগবে, তা প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’