যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

উচ্চস্বরে কথা বলায় ইবির বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি, আহত ২

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
উচ্চস্বরে কথা বলায় ইবির বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি, আহত ২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কুষ্টিয়াগামী একটি দোতলা বাসে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে শহরের জেলখানা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত জুনিয়র শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে সিনিয়র শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

মারামারিতে জুনিয়র হৃদয়ের নাক, কানের নিচে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অপরদিকে আইসিটি বিভাগের আবু সাঈদও হাতে আঘাত পেয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাস থেকে বাসটি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের দোতলায় উচ্চস্বরে গল্পগুজব করছিলেন। এতে ভুক্তভোগী হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অস্বস্তি বোধ করেন। বাস থেকে নামার সময় বাংলা বিভাগের হৃদয়ের বন্ধু বাপ্পি ও অন্য শিক্ষার্থীরা বিরক্তির বিষয়টি জানিয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাসে চিৎকার করতে নিষেধ করেন।

এ সময় একে অপরের সেশন জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এবং অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে চাইলে অন্য এক শিক্ষার্থীকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, “গোধূলি বাসের দোতলায় উঠে দেখি কয়েকজন প্রচণ্ড জোরে চিল্লাচিল্লি করছিল। আমার বন্ধু বাপ্পি নামার সময় তাদের অনুরোধ করে বলে—এভাবে চিল্লাচিল্লি না করলে ভালো হয়, অনেকের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু তারা উল্টো রেগে গিয়ে বলে, 'তুই কে? তুই আমারে চিনিস?' বাপ্পি তাদের সেশন জানতে চাইলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমি বাপ্পিকে সরে আসতে বলি। কিন্তু তারা বাপ্পিকে আটকে ধরে জেরা করতে থাকে। তখন আমি বলি, 'ভাই, ওকে এভাবে বলছেন কেন? ও তো ঠিক কথাই বলছে, আমার নিজেরই তো মাথায় যন্ত্রণা করছে।' এ কথা শুনে তারা আমার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে।"

তবে এই অভিযোগকে ‘অতিরঞ্জিত’ দাবি করে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, “আমরা দ্বিতল বাসে আসার সময় গল্প করছিলাম। বাসটি যখন জেলখানা মোড়ে পৌঁছায়, তখন নামার মুহূর্তে এক জুনিয়র শিক্ষার্থী এসে আমাদের সাথে বাজে ব্যবহার করে এবং বলে—'তোমাদের কোনো ম্যানার নেই'। আমরা তাকে শান্তভাবে আগেই বিষয়টি জানাতে পারতেন কিনা জিজ্ঞেস করলে সে তর্ক শুরু করে।”

তিনি আরও বলেন, ‘মূল ঘটনা ঘটেছে পরে। পেছন থেকে অন্য একটি ছেলে এসে আমাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বাসের গ্লাসের ওপর ফেলে দেয়। এতে আমার দুটি হাতই মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং পরে সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। যার সাথে কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল সে আমাকে আঘাত করেনি, করেছে পেছন থেকে আসা সম্পূর্ণ অচেনা অন্য একটি ছেলে। আমরা সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছে। এখন বিষয়টিকে জুনিয়র মারধরের নাটক বানিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। দুই বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)