যবিপ্রবি প্রতিনিধি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬’। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালীন এ আয়োজন করায় মাঠজুড়ে প্রতিযোগী ও দর্শকদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। তবে উদ্বোধনের পর মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা যায়, ইভেন্টে প্রতিযোগী না পেয়ে বারবার মাইকিং করে আহ্বান জানাতে হচ্ছে আয়োজকদের। ক্লাস-পরীক্ষার চাপ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঠে আসার সুযোগ না থাকাই এর প্রধান কারণ বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাবিব এই ব্যবস্থাপনাকে ‘অগোছালো’ উল্লেখ করে বলেন, "ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রেখে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চরম অব্যবস্থাপনার পরিচয়। শিক্ষার্থীরা যেমন খেলায় মনোযোগ দিতে পারছে না, তেমনি বারংবার মাইকিংয়ে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজন এমন অপরিকল্পিত হওয়া দুঃখজনক।
অনুরূপ অভিযোগ করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. স্বাধীন হোসেন। তিনি বলেন, "প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ক্লাস ও ল্যাব চালু রেখে খেলা চালানোয় ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উচিত ছিল সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এবং ওই সময়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শাহেদুর রহমান বলেন, "দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই আমার প্রথম আয়োজন। সাধারণত এই প্রতিযোগিতা শীতকালে হয়, কিন্তু এবার নির্বাচন, রমজান ও সেমিস্টার ফাইনালের কারণে সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কমিটির পরামর্শেই এই সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, বর্তমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে ডিনস কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ক্লাস-পরীক্ষা সীমিত রেখে প্রতিযোগিতার আয়োজন করার চেষ্টা করা হবে।