যবিপ্রবি প্রতিনিধি
টেকসই উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাকাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ এর আয়োজন করে।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জাহেদুল ইসলাম এবং আনিকা আনজুম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের লাহোরের ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উসমান গণি খান। তিনি "ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট" বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের অধ্যাপক ড. সেলিম আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য মন্তব্য করেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং বাস্তবমুখী প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে টেকসই পদ্ধতির সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মতো খাতে প্রকৌশলগত উদ্ভাবন সমাজকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই অগ্রগতি অবশ্যই পরিবেশ সচেতনতা, নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সমতার ভিত্তিতে হতে হবে।
গবেষণা সম্মেলনে বক্তারা টেকসই উন্নয়নবিষয়ক গবেষণার বৈশ্বিক গুরুত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেন, এর আয়োজক প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খান। কো-কনভেনর হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. এইচ এম জাকির হোসেন, ড. মো. কামরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।