ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
হরিণাকুণ্ডুতে চোর সন্দেহে এক যুবককে গ্রাম্যসালিশে জোরপূর্বক নাকে খৎ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের কালীশংকরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই গ্রামের পল্লীচিকিৎসক এনামুলের বাড়িতে চুরি করতে প্রবেশ- এমন সন্দেহে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালিশে থাকা মাতুব্বররা।
শাস্তিপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম গোলাম রসুল (২৮)। তিনি কালীশংকরপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, এনামুল ডাক্তারের বাড়িতে শুক্রবার রাতে গরু চুরি করতে প্রবেশ- এমন সন্দেহে শনিবার বিকেলে এই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সালিশ বসানো হয়। এতে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রদলনেতা মতিয়ার লস্কর, বাবুল মালি, রাশিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলামসহ কয়েকশ’ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে অভিযোগ তোলা হয়, শুক্রবার রাতে এনামুল ডাক্তারের বাড়ির পাশে গোলাম রসুলকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এনামুল ডাক্তারের ছেলে ইমরান। তার অভিযোগের ভিত্তিতে গোলাম রসুল ও তার বাবা মান্নানকে পরদিন জোরপূর্বক সালিশে হাজির করানো হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশে মাতুব্বরদের একজন সাদা শার্ট ও লুঙি পরে গোলাম রসুলের ঘাড় মাটির সাথে চেপে ধরে প্রায় ২০ ফুট নাকে খৎ দিতে বাধ্য করছেন। পরে কানে ধরে ওঠবস করিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর এ দৃশ্য অনেকে সরাসরি দেখছে, আবার অনেকে মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করছে।
জানতে চাইলে বিএনপিনেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই ছেলে চোর। আওয়ামী লীগের আমল থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আছে। গ্রামের লোক এই ছেলেকে ধরে মারধরসহ তার হাত কেটে দিতে চাচ্ছিল। এই কারণে আমি উপস্থিত থেকে তাকে সালিশে নাকে খৎ দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। এরপরেও সে এমন কাজ করলে তাকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল মান্নান জানান, তার দুই ছেলে। ছোট ছেলে প্রবাসী। গোলাম রসুল বড় ছেলে। চুরি করে সংসার চালাতে হবে- এমন অভাব তার সংসারে নেই। তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এই ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না বলেও জানান।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কিছুক্ষণ আগে একটি ভিডিও দেখেছি। এটা খুবই অন্যায় কাজ করা হয়েছে। কেউ যদি কোনো অপরাধ করেই থাকে, তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু সালিশে কেউ আইন হাতে তুলে নিলে তারাও অপরাধী। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।