সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে ‘পূর্ণদিবস কর্মবিরতি’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। অ্যান্ট্রি পদ ৯ম গ্রেডসহ চার দফা দাবিতে শিক্ষা ভবনে দুই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন ও আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পরও দাবি আদায় না হওয়ায় শিক্ষকরা এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিলেন। কর্মবিরতি চলার সময় শিক্ষকরা বার্ষিক ও এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষা বর্জন এবং খাতা মূল্যায়ন থেকে বিরত থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন। এতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সমিতির একজন শিক্ষক নেতা বলেছেন, সরকার যদি তাদের দাবি পূরণ করে তাহলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নেবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করবেন। কিন্তু দাবি পূরণ না হলে আগামী বুধবার নতুন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন তারা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এর আগে গত বৃহস্পতিবারও তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাসের পরও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে শিক্ষক নেতারা জানান।
শিক্ষকদের প্রধান ৪টি দাবি হলো
১. সহকারী শিক্ষক পদটিকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেট দ্রুত সময়ে প্রকাশ।
২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা।
৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান।
৪. ২০১৫ সালের পূর্বের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২ থেকে ৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।
প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন আলটিমেটাম

তিন দফা দাবিতে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের সই করা চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি সব বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা কার্যক্রম বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এতে আরও বলা হয়েছে, তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষক বা কর্মকর্তার কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।