কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
রোগী সেজে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আভিযানিক টিম। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদক কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানার নেতৃত্বে চার সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান চালায়।
সরেজমিনে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিষয়ে রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার আকুতি তাদের চোখে মুখে। অসহায় রোগীদের দীর্ঘশ্বাস, পদে পদে হয়রানি, আর অর্থের বিনিময়ে সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর চিরচেনা চিত্র ধরা পড়ে এই অভিযানে। রোগীবেশে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে অনিয়মের আদ্যোপান্ত সরাসরি দেখতেই দুর্নীতি দমন কমিশনর (দুদক) কর্মকর্তাদের এই পন্থা অবলম্বন।

তাদের অভিযানের গোপনীয়তা এমন ছিল যে, অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা গাড়িতে ওঠার আগমুহূর্তেও জানতেন না তাদের গন্তব্য কোথায়। এমন কথাই জানান অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা।
পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই আকস্মিক অভিযানে বেরিয়ে আসে হাসপাতালের ভেতরের নানা অনিয়মের চিত্র।
অভিযানের শুরুতে দুদকের দুই সদস্য সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালের বিভিন্ন কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ান এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান, নিয়ম ও সিরিয়ালকে পাশ কাটিয়ে কেবল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই কীভাবে আগেভাগে সেবা বা সিরিয়াল বাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযান শেষে দুদকের টিম লিডার সহকারী উপপরিচালক সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘হাসপাতালে আসা রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আমরা একটা এনফোর্সমেন্ট টিম এখানে এসেছিলাম। অধিকাংশ অভিযোগেরই সত্যতা মিলেছে। সেগুলো শনাক্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। উনারা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম দুদকের এই অভিযান পরিচালনার খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা অভিযানে পাওয়া কিছু তথ্য ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আমরা গুরুত্বের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এর বাইরে তাদের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ উনারা গ্রহণ করবেন।’