যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর,২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর,২০২৬, ০১:৪২ এ এম
ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’

ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সমর্থনে গত সপ্তাহে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে একটি অভিনব স্লোগান নজর কেড়েছে— ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এই দুইয়ের মিশ্রণে তৈরি স্লোগানটির আক্ষরিক অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হলেও, এর রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য ব্যাপক। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন প্রজন্মগত ব্যবধান ও পুলিশি নজরদারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকে এই স্লোগানের সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান। বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’

ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল থেকে আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি এবং মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম ব্যবহার করে বার্তাটি পাঠানো হয়। বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় ব্যবহারকারীরা এর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই ছদ্মনামে এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে তারা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপরই বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা। এটি এখন পুলিশ ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রান্সের স্বাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা স্বীকার না করলেও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তার মতে, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না।
বৈশ্বিক বিস্তার ও আন্দোলনের পটভূমি

ফ্রান্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই স্লোগান এখন বেলজিয়াম ও জার্মানির বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি ভিডিওতে স্লোগানটি উচ্চারণ করেছেন। এর আগে ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এও শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের অপমানসূচক শব্দকে আন্দোলনের নাম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে জরাজীর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মাসে এই আন্দোলন শুরু হয়। কয়েকশ স্কুলে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের কিছু ঘটনায় সহিংসতাও ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বর্তমানে এই আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য অধিকারভিত্তিক সংগঠন যুক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)