সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা চার ঘণ্টা পেরিয়ে এখনও চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার মাঝখানে দুইপক্ষ পরামর্শ ও বিশ্রামের জন্য কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেয়। এরপর আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখনও এ আলোচনার সমাপ্তি নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং আলোচনা আরও বাড়বে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় নমনীয়তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নমনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেটিই প্রমাণ হবে যে উভয় পক্ষ আর সংঘাত বাড়াতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে বাড়াবাড়ি রকমের ভঙ্গি দেখানো আলোচনা প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, কিন্তু বাস্তবে টেবিলে যা আছে, তা অনেকটাই ভিন্ন। কারণ দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক চাপ সম্পর্কে খুব সচেতন।
মোহাম্মদ আলীর মতে, পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই আলোচনায় এই নমনীয়তা এসেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদল আসার পর থেকেই পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরো জানান, পাকিস্তান আলাদাভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে বসে তাদের আরো নমনীয় হতে এবং এই ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট না করতে উৎসাহিত করেছে।
তার মতে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান নয়, বিশ্বও আর কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা বহন করার অবস্থায় নেই—বিশেষ করে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি অর্থনীতির ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনায় ভ্যান্সের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আরও দুই শীর্ষ দূত অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।
বার্তা সংস্থাটি হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানায়, এই মুখোমুখি বৈঠকে ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে আলোচনাগুলো পরোক্ষভাবে চললেও এখন সরাসরি সংলাপে অংশ নেওয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৭৯ সালের পর এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি আলোচনার গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।