সুবর্ণভূমি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিকে ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতি (নন-প্রলিফারেশন) তৈরি করা সম্ভব নয়, যদি ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি নীরবতা বজায় রাখা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হলে, চলমান সংঘাতে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে অস্বচ্ছতা রাখা যৌক্তিক নয়।”
আইনপ্রণেতারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক স্বচ্ছতার মানদণ্ডে বিচার করে, ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত।
বর্তমানে ইসরাইল তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে না। একইভাবে, হোয়াইট হাউসও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক ভারসাম্য, সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা। কিন্তু তারা মনে করেন, এ ধরনের তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।
চিঠিতে তারা ইসরাইলের সম্ভাব্য ওয়ারহেড সংখ্যা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা, ডিমোনা স্থাপনায় কী উৎপাদিত হয় এবং ইসরাইলের সামরিক নীতিমালা ও ‘রেড লাইন’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কী জানে—এসব তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইনপ্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে খোলাখুলি স্বীকার করে। তাই ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল