যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৬ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রোগমুক্তিতে কুরআনের ৬ দোয়া

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ৬ মে,২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
রোগমুক্তিতে কুরআনের ৬ দোয়া

মানুষের জীবন যেন এক দীর্ঘ সফর—কখনো সুখের আলোয় ভরা, আবার কখনো দুঃখের ছায়ায় আচ্ছন্ন। এই পথচলায় আমরা নানান শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অস্থিরতা ও হৃদয়ের ভারাক্রান্ততা অনুভব করি। এমন মুহূর্তে মানুষ শুধু বাহ্যিক চিকিৎসাই নয়, খুঁজে ফেরে এক গভীর প্রশান্তি—যা আত্মাকে সান্ত্বনা দেয়, হৃদয়কে দৃঢ় করে এবং জীবনে নতুন আশা জাগায়। মহান আল্লাহ তাআলা তার অশেষ রহমতে আমাদের জন্য নাজিল করেছেন পবিত্র আল-কুরআন, যা কেবল পথনির্দেশকই নয়, বরং অন্তরের রোগের নিরাময় এবং প্রশান্তির এক অমূল্য উৎস। কুরআনের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে শুধু শব্দই উচ্চারিত হয় না, বরং তা হৃদয়ে সঞ্চারিত করে এক অনির্বচনীয় শান্তি, যা মানুষকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে, যেগুলো তিলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসে, দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হয় এবং আল্লাহর রহমতে রোগমুক্তির পথ সুগম হয়। আয়াতগুলো হলো—

১. আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ

উচ্চারণ: ওয়া ইয়াশফি সুদুরা কাওমিম মুমিনীন

অর্থ: ‘আর তিনি মুমিনদের বুকসমূহকে শিফা দান করবেন।’ (সুরা তাওবা: আয়াত ১৪)

২. আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ

উচ্চারণ: ‘ওয়া শিফাউল লিমা ফিসসুদুরি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন।’

অর্থ: ‘এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।’ (সুরা ইউনুস: আয়াত ৫৭)

৩. আল্লাহ তাআলা বলেন—

قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ

উচ্চারণ: ‘কুল হুওয়া লিল্লাজিনা আমানু হুদাওঁ ওয়া শিফা।’

 অর্থ: ‘বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার।’ (সুরা হামিম: আয়াত ৪৪)

৪. আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ 

উচ্চারণ: ‘ইয়াখরুজু মিমবুতু-নিহা শারাবুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু ফিহি শিফা-উনলিন্নাস।’

অর্থ: ‘তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার।’ (সুরা নাহল: আয়াত ৬৯)

৫. আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

উচ্চারণ: ‘ওয়া নুনাজজিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন।’

অর্থ: ‘আমি কুরআনে এমন কিছু অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।’ (সুরা ইসরা: আয়াত ৮২)

৬. হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর কথা আল্লাহ তাআলা এভাবে তুলে ধরেন—

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

উচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফীন

অর্থ: ‘আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে শিফা দান করেন।’ (সুরা শুআরা: আয়াত ৮০)

অতএব, কুরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের জন্য শুধু পড়ার শব্দ নয়, বরং জীবনের প্রতিটি কষ্ট, দুঃখ ও অসুস্থতার মধ্যে এক আশার আলো। এগুলো আমাদের শেখায়—প্রকৃত আরোগ্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। তাই শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি যদি আমরা আন্তরিকভাবে কুরআনের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করি, বুঝি এবং হৃদয়ে ধারণ করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা পাবো দেহ ও আত্মার প্রকৃত প্রশান্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করার তাওফিক দান করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের জীবনের সকল কষ্ট দূর করে শান্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)