সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
চুরানব্বই হাজারের জায়গায় আড়াই লাখ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হয়েছে বলেই প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যথাযথ সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হলে আজ তাদের সোনার খাটও উপহার দেওয়া যেত'— এমন মন্তব্য এসেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে মিলনমেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
৯ নম্বর সেক্টরের সহ-অধিনায়ক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এতে যোগ দেন পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ডা. মো. শাহ জাহান। আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ নম্বর সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আহসান উল্যাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল এম এস এ কে আজাদ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ হিল সাফি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মণ্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজীব এবং কালীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুর রউফ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক এসএম শহীদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দলীয়করণ ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির কারণে প্রকৃত বীররা আজও প্রাপ্য মর্যাদা পান না। এ কারণে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে এখন পর্যন্ত ৫৪টি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হামলার শিকার হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার এখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ করছে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা পুনঃস্থাপন হবে।
মিলনমেলায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা স্মরণ করেন একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা।
শহীদ ও প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সমবেত কণ্ঠে দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।