প্রতিনিধি
, কেশবপুর (যশোর)
যশোরের কেশবপুর উপজেলার দোরমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ভরাটের নামে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ। মাঠে মাত্র ৫০ ট্রলি মাটি ফেলে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান। জানিয়েছেন, সব টাকারই মাটি দিতে হয়েছে সেখানে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের নামে দোরমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের খেলার মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাটের জন্য নগদ ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী জানায়, ওই মাঠে সম্প্রতি ৪০-৫০ ট্রলি মাটি ফেলা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় কেশবপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের অধীন দোরমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ভরাটের জন্য চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ টাকা (নগদ অর্থ) বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার দৈর্ঘ্য-৪০ মিটার এবং প্রস্থ-৩৪ মিটার। কিন্তু প্রকল্প চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ওই মাঠে মাত্র ৫০ ট্রলি (প্রতি ট্রলি ৮০০ টাকা) মাটি ফেলে মাঠটি সমান করে দিয়েছেন। যার খরচ মূল্য মাত্র ৪০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্কুল মাঠের উত্তরকোণে বাগানের মধ্যে স্থাপিত এক ফুট বাই একফুট একটি টাইলসে লেখা রয়েছে, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ, প্রকল্প সভাপতির নাম এবং কাজের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ।
এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং এলাকাবাসীকে অবগত না করে স্কুল বন্ধের দিনে মাঠে ট্রাক্টরে করে প্রায় ৪০-৫০ টলি মাটি ফেলে বরাদ্দের সমুদয় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান স্কুল মাঠে ট্রলিতে করে মাটি ফেলেছেন। এতে মাঠটি ৮-৯ ইঞ্চি মতো উঁচু হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আমাদের কোনো কিচুই অবহিত করেননি।’
প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা এবং সাবেক সভাপতি শিক্ষক আজগর আলী বলেন, ‘স্কুলমাঠ ভরাটের জন্য কতো টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা আমাদের বলা হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন আগে টাইলসে লেখা একটি ছোট বোর্ড এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তার পাশে মাটির ওপর স্থাপন করছিলো। ওইসময় চেয়ারম্যান এসে তা সরিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে উল্টো করে বাগানের মধ্যে স্থাপন করেন।’
এ ব্যাপারে প্রকল্প কমিটির সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সবই বানোয়াট ও মিথ্যা। ওই স্কুলে বড় বড় খানা-গর্ত ছিলো। সেখানে ছয় লাখ টাকারই মাটি ফেলা হয়েছে।’
কতো ট্রাক মাটি ফেলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি খাতা দেখে বলতে হবে। বিষয়টি আপনি সরেজমিনে এসে দেখলেই বুঝতে পারবেন। আমি ওইসব কাজ করিনে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘২-৩ মাস হলো কেশবপুরে যোগদান করেছি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ব্যাপারে আগের যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি বলতে পারবেন।’