যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পদ্মায় পড়া বাসের যাত্রী খাইরুল যেভাবে বেঁচে ফিরলেন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ,২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
পদ্মায় পড়া বাসের যাত্রী খাইরুল যেভাবে বেঁচে ফিরলেন

বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের আসনে থাকা যাত্রী কীভাবে ভেতর থেকে নদীর পানিতে ছিটকে পড়েন এবং সাঁতরে এসে পন্টুনে দাড়িয়ে থাকা মানুষের সাহায্যে ওপরে ওঠেন তারই একটা শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস খাঁর ছেলে টেক্সটাইল মিলশ্রমিক খাইরুল খাঁ নিমজ্জিত বাস থেকে বেঁচে ফেরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বি-২ সীটের যাত্রী ছিলেন।

খাইরুল বলেন, 'বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বাঁচলেও বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। আমার পাশের বি-১ সিটে বসা ছিলেন সাদা রঙের টি শার্ট পরা এক যুবক। খোকসা বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে তিনি উঠেছিলেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক নেমেছিলেন আবার কয়েক মিনিট পর যুবকটি তার সিটে ফিরে এলে তাকে বসতে দেওয়ার জন্য আমি সিট থেকে উঠে দাঁড়াই। ঠিক ওই সময়ই বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়। ওই সময় আমি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে বাইরে নদীর পানিতে পড়ে যাই। ওই সময় আমি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী এবং কিছু ব্যাগ-ব্যাগেজ পানিতে ভাসতে দেখি। নদীর পানিতে ভাসতে থাকা যাত্রীরা সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে দাঁড়ানো লোকজনের সাহায্যে পানি থেকে উঠে জীবন বাঁচায়।’

‘তবে আমার পাশের সিটের ওই টি শার্ট পরা যুবকের আর কোনো দেখা পাইনি। আমার যতটুকু মনে পড়ে এই বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলো। তাদের অধিকাংশই নারী যাত্রী এবং তাদের সঙ্গে শিশু ছিল। কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়ে থাকতে পারে।’

দুর্ঘটনাকবলিত বাসের কুমারখালী ও খোকসা কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ছেড়ে রাজবাড়ী হয়ে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪) যাত্রীবাহী বাসটি ছাড়ে। খোকসা বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে আরও দু'জন যাত্রী উঠেন। পরে বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে রাজবাড়ী অভিমুখে যাত্রা করে।

বাসটির খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব জানান, ওই বাসের বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টার থেকে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুল নামে এক যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। তবে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও এক বৃদ্ধ যাত্রীর কোনো সংবাদ এখনও পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, 'ঘটনার সময় বাসটির প্রকৃত চালক ছিলেন না- একথা মিথ্যা। ঘটনার সময় প্রকৃত চালকই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বেঁচে ফেরা খাইরুলের সঙ্গে কথা বলে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। চালক আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসটি ফেরিতে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য ফেরি কাউন্টারে নেমেছিল, আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটির চালক সুপারভাইজার এবং হেলপারের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়।'

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) এবং শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) লাশ উদ্ধার হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)