কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি আপ ট্রেন রেখে নিখোঁজ হন চালক মাহবুবুর রহমান। তবে, এক ঘণ্টা ৮ মিনিট পর ৭টা ১৫ মিনিটে তিনি ফিরে এসে ট্রেন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। উত্তেজিত যাত্রীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। যাত্রীদের বিক্ষোভের পর নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনের মাস্টার ও কর্মচারীরা গাঢাকা দেয়। পরে এক ঘণ্টা ৮ মিনিট পর চালক ফিরে আসলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে, কী কারণে ট্রেনের চালক নিখোঁজ হন বা পালিয়ে যান তা জানা যায়নি। একটি সূত্রে জানা গেছে, চালকদের দাবি দাওয়া আদায়ে তারা এভাবে ট্রেন রেখে লাপাত্তা হয়ে যান।
ট্রেনের যাত্রী বাপ্পি নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আমার আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। আমি আজ না পৌঁছাতে পারলে পরীক্ষা দেব কী করে চিন্তায় আছি।’
এক ঘণ্টা পর ট্রেনের চালক মাহবুবুর রহমান ফিরলেও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাননি। তার কাছে নিখোঁজের কারণ জানতে চাইলে তিনি ট্রেন স্টার্ট দিয়ে হুইসেল বাজাতে থাকেন।

সাগরদাঁড়ি ট্রেনের গার্ড শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে খুলনা থেকে ছেড়ে বিকাল ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর গাড়ির ক্লিয়ার দিলে ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চালক গাড়ি রেখে চলে গেছেন। তবে কি কারণে গাড়ি রেখে চলে গেছেন তা বলতে পারেননি।’
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী জানান, ‘খুলনা থেকে ছেড়ে সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়মানুযায়ী দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ক্লিয়ার দেওয়া হয় কিন্তু সেখানে চালকের ইঞ্জিনে গিয়ে দেখা যায় দরজা বন্ধ, ইঞ্জিনও বন্ধ। এরপর থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। এক ঘণ্টার অধিক সময় পর চালক ফিরে আসেন এবং ট্রেন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। ’
এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি একইভাবে পোড়াদহ জংশনে রেখে চালক পালিয়ে যান। পরে এক ঘণ্টা পর তিনি এসে ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে।