সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন হলেন, উজানপই গ্রামের ফরিদ; ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন; গোন্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন; বোয়ালা গ্রামের হৃদয়; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর। এ ছাড়া মিনহাজ ও শাহিনের গ্রামের নাম এখনো জানা যায়নি।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নিহত দুজন হলেন দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির। আর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা শ্যামলও এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম সচিব মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মরদেহ শনাক্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মরদেহগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে কারা মারা গেছেন এবং মোট কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে নিহতদের বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।