স্টাফ রিপোর্টার
যশোরের ঝিকরগাছায় জমি জবরদখল, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ এবং থানা পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় জমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়াকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী জান্নাতুন নাহার মোহনা।
লিখিত বক্তব্যে মোহনা অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়ার ইন্ধন ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বারবাকপুর এলাকার নাজমুল আকরাম রকি ও তার সহযোগীরা তাদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা করছেন। রকি ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে জানান মোহনা।
তিনি জানান, বারবাকপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর খতিয়ানের ৩১২৭ নম্বর দাগের নালিশি জমি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-১৩০/২৬ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে। ওই জমির বিষয়ে আদালত নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছেন।
অভিযোগ করা হয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে নাজমুল আকরাম রকি, তার স্ত্রী তুলি বেগমসহ একদল লোক গত ২৪ এপ্রিল, ১০ মে এবং জুলাই মাসের বিভিন্ন তারিখে ওই জমিতে প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন মোহনা।
মোহনা আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তারা ঝিকরগাছা থানায় এ পর্যন্ত অন্তত আটটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পুলিশ আসামিদের পক্ষ নিয়ে তাদের জমি দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবারটি ওসি গোলাম কিবরিয়াকে দ্রুত অপসারণ এবং নাজমুল আকরাম রকিসহ জমি দখল ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহনার বাবা মোজাম্মেল হোসেন, মা নাছিমা বেগম, নানি মোমতাজ বেগম, চাচা বজলুর রহমান, খালু আমির হোসেন, ভাই মাহিম ও চাচাতো ভাই জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।