যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

দখল-চাঁদাবাজি-সহিংসতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
দখল-চাঁদাবাজি-সহিংসতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নির্লজ্জ সহিংস লুটপাট, ভাংচুর ও জবরদখল; কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হওয়াসহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিসহ সারাদেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযানের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ আহ্বান জানিয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এ লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন ‘জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে অর্ধশত বছর ধরে গরীব অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্যপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কোন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ন চোরতন্ত্রের পতনের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক নির্বাচনের জনরায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের নেতাকর্মীদের এ জাতীয় কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে কী বার্তা দিচ্ছে? সাধারণ জনগণের মানসপটে বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ এখনো সতেজ। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারকগণ দলীয় নেতাকর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি ভেবে দেখছেন কী!’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদি চোরতন্ত্রের পতনের পর বিজয়ের দাবিদার হিসেবে আগস্ট ২০২৪ থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলটির অনেক নেতাকর্মী বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন, যা গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। 

আওয়ামী সরকারের পতনের পরপরই ঢাকার সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীর মতো, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের প্রধান প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল সংযোগ ও ইন্টারনেট, বর্জ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত ব‍্যবসা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুরূপ চাঁদাবাজি ও দখলবাজির হাতবদলকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ মহোৎসবে পরিণত করেছেন । যা কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ঘাত অনেক ক্ষেত্রে নির্লজ্জভাবে সহিংস রূপ ধারণ করছে। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির এই অপতৎপরতা শুধু চলমান থাকেনি, বরং সরকারের একজন মন্ত্রী যখন ‘‘চাঁদাবাজি দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন’’ মর্মে একাধিকবার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে তার এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অধিকতর স্বাভাবিকতা লাভ করায় উক্ত ঘটনাগুলো ঘটছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।’

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ও ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাংচুরের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন ‘এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকে সংঘটিত ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা মাত্র। যা সরকারের যাবতীয় ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা উপস্থাপন করার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে সরকারি দল যদি তাদের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই দখলবাজি ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রনের আর সুযোগ বা ক্ষমতা তারা চাইলেও পাবেন না। অন্তত নিকট অতীতের দৃষ্টান্ত সেটাই বলছে। শক্ত হাতে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে দমন করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তখন হয়তো কিছুই করা সম্ভব হবে না।

ক্ষেত্র বিশেষে দলীয় নেতা-কর্মীদের এ ধরনের অপতৎপরতায় উচ্চ পর্যায় থেকে বিব্রতবোধ থেকে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গৃহীত হলেও একদিকে কঠোরতর প্রতিরোধমূলক কৌশলের ঘাটতি ও অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের এ সব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মূলত সরকারি দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বরং বাস্তবে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটছে। যার বহুমুখী দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। তাই অনতিবিলম্বে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে টিআইবি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)