সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সংগঠন এএসএইচআরএই-এর প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা তিনজনের একজন হয়েছেন সাতক্ষীরার মেয়ে ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান।
তার এই অর্জনে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
প্রায় দুই মাস আগে এএসএইচআরএই-এর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আবেদন করেন। নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার শেষে মাত্র তিনজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।
তাদের মধ্যে দুজনই বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী-প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান ও আফতাব। অপরজন দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বিজয়ীদের বিমানভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করেছে আমেরিকান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার-কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স-এএসএইচআরএই।

গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (সিআরসি) প্রজ্ঞার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রজ্ঞার এই অর্জনে গর্বিত সাতক্ষীরাবাসী।
সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা এসএসসিতে জিপিএ-৫সহ জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও রয়েছে তার সাফল্য। তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ চার-পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
২০২১ সালে বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার নেতৃত্বে সাতক্ষীরা দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং টানা সাতটি বিতর্কে তিনি শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি চ্যানেল আইয়ের ‘স্বর্ণকিশোরী’ হিসেবে খুলনা বিভাগের প্রধান এবং বিডিনিউজ২৪ ডটকমের হ্যালোর শিশু সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রজ্ঞার মা সাতক্ষীরা জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। বাবা সাহিদুর রহমান সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা শাখার ম্যানেজার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
মা নাজমুন নাহার বলেন, ‘প্রজ্ঞা শুধু আমার মেয়ে নয়, সে সাতক্ষীরার মেয়ে, পুরো বাংলাদেশের মেয়ে। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে সে যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে-এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।’