যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খুবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা

খুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ৩ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:০২ এ এম
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খুবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সজল নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। পোস্টটির সত্যতা ও ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে খাজা গেট এলাকায় ডেকে আনেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবির বলেন, "অভিযুক্ত সজলকে যখন প্রাথমিকভাবে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এসে বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল বা স্থানীয় ট্রাকস্ট্যান্ডের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিতর্কিত পোস্টটি তাদের সামনে পড়ে শোনানো হলে স্থানীয়রাই ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।"

তিনি বলেন, "পোস্টটি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত ছিল, তাই আমাদের মূল দাবি ছিল বিষয়টির সুরাহা যেন বাইরের কেউ না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের গেটের মধ্যে নিয়ে আসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দিই।"

এ বিষয়ে আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, "ফেসবুক পোস্টের ঘটনা নিয়ে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কথা বলতে গেলে সেখানে স্থানীয় দুই-তিনজন মুরুব্বি উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের খাজা গেটে আসতে বলা হলে অভিযুক্ত যুবকসহ তারা এখানে আসেন। খাজা গেটে বসার পর কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন হুট করে উঠে ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।"

তিনি আরও বলেন, "এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করে এবং যুবককে ক্যাম্পাসের গেটের ভেতরে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তখন বাইরে থাকা কয়েকজন বহিরাগত এসে গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং জোরপূর্বক গেট সামান্য ফাঁকা করে যুবকটিকে টেনে বের করে নিয়ে যান। পরে দৌড়ে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে তাকে পুনরায় ধরে এনে ডিএসএর কাছে হস্তান্তর করা হয়।"

শিক্ষার্থীদের দাবি, সজলের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনে মাদকসংক্রান্ত কথোপকথন ও বার্তার তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে পরে সেখানে বাইরের কিছু লোকজনকে নিয়ে আসা হয়। ওই ব্যক্তিকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা লোকজন সরে যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি। মসজিদে মাইকিং করে এ ধরনের ঘোষণা কারা দিয়েছে এবং কারা এর পেছনে দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে যে অভিযোগ দায়ের করা হবে, সেখানেও এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।"

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, "উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)