যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হত্যাচেষ্টা মামলায় পুনঃতদন্ত ও এনএসআই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি

খুলনা অফিস

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর,২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
হত্যাচেষ্টা মামলায় পুনঃতদন্ত ও এনএসআই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি

সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের সাবেক ভিপি প্রার্থী রায়হান বিন কামালকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের দাখিল করা ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ বাতিল করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল।

একই সঙ্গে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বি এম মহিমকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান রায়হান বিন কামাল। তিনি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হান বিন কামাল অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের ৮ মার্চ তাকে অপহরণের পর মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। তার দাবি, মামলার আসামিরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রায়হান জানান, ঘটনার দিন বাবার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে বেবিট্যাক্সিতে করে বাড়ি ফেরার পথে সঙ্গীতা সিনেমা হলের মোড়ে কয়েকটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে ঘিরে ফেলেন। পরে তাকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বি এম মহিমের নেতৃত্বে রিপন কবির, সবুজ হাজরা, রেজা, শেখ হাদীউজ্জামান সাদি, জমিরুল হক মিন্টু, অমিতাভ ঘোষ, ফয়জুল ইসলাম টিটু, দেবদুলাল বাড়ই বাপ্পি, রনবীর বাড়ৈ সজল, মেহের হোসেন সাব্বির, শওকত আলী হাসান ও শফিকুর রহমান পলাশ এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

রায়হান বলেন, পরে তাকে শান্তিধাম ফুল মার্কেট এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে হামলা করা হয়। এতে তার বাম হাতের রগ কেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে তার চিকিৎসা ব্যাহত হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। দীর্ঘ সময়েও মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রায়হান বিন কামালের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে আদালতে ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই ইমরান হোসেন বলেন, ‘৩০ আগস্ট মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে যা পেয়েছি, সেই অনুযায়ীই প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’

রায়হান বিন কামাল বলেন, মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের দাখিল করা ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল করে মামলাটি সিআইডি অথবা পিবিআইতে হস্তান্তরের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হান পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মামলার ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডি বা পিবিআইতে হস্তান্তর, মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ ছাড়া মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা বি এম মহিমকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে অপসারণের দাবিও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হান বিন কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার নির্যাতন ও বিচারহীনতার যন্ত্রণা ভোগ করছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলার ঘটনায় তার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ ঘটনার সূত্র ধরে তিনি তার বাবাকেও হারিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)