সম্পাদকীয়
ঝিনাইদহের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা তামাকপাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন তামাক প্রক্রিয়াকরণের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর কণা বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও পরিবেশগত এই হুমকিতে শঙ্কিত।
প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে একটি শিশু বিদ্যালয়ের এতো কাছাকাছি এমন ক্ষতিকর শিল্প কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেল? স্থানীয় প্রশাসন কি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন? নাকি ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’ দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন দ্বিধাগ্রস্ত?
একদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকরা বিপদের কথা বলছেন, অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু কারণ দর্শানোর চিঠি দেবে বলছে। আর ইউএনও বলছেন, ‘সমস্যা হলে’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সমস্যা ইতোমধ্যে প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের এই ‘দেখা দেখি’ ও ধীরগতির মনোভাব শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অশেষ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শিশুদের জীবনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সবার আগে। দ্রুততম সময়ে ওই কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে স্থানান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এতো কাছে ক্ষতিকর শিল্প গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য কঠোর আইন ও নিয়মিত মনিটরিং চালু করা জরুরি। প্রশাসনকে ভয় বা পক্ষপাতিত্বের উর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষিত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা এড়িয়ে গেলে আগামী প্রজন্মকে দিতে হতে পারে ভয়াবহ মূল্য।