যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব: দরকারি উদ্যোগ নিন এখনই

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ মে,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মে,২০২৬, ১২:২০ পিএম
স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব: দরকারি উদ্যোগ নিন এখনই

যশোরে সাম্প্রতিক সময়ে স্ক্যাবিস বা পাঁচড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গেল তিন দিনে এখানকার বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ২৮৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। নিশ্চিতভাবেই বলে দেওয়া যায় যে, রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের টিকিটে রোগের নাম উল্লেখ থাকে না।

স্ক্যাবিস একটি অত্যন্ত সংক্রামক চর্মরোগ, যা একবার আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারে ছড়াতে পারে। অতিসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের সংক্ষমতার অভাব সাম্প্রতিককালে কোভিড-১৯ এর সময় প্রকটভাবে সামনে আসে।

স্ক্যাবিস দ্রুত ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের অস্বাস্থ্যকর ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ। বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গাতেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। জনঘনত্ব এতো বেশি যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চিকিৎসাসেবার অপর্যাপ্ততা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালে সংক্রামক রোগীদের জন্য মাত্র একটি ওয়ার্ড বরাদ্দ থাকে, যেখানে স্ক্যাবিস, হাম, ডায়রিয়াসহ সব ধরনের রোগীকে একসঙ্গে রাখতে হয়। ফলে একজন রোগী আরেকজনের রোগ বহন করে বাড়ি ফেরেন। এটি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতা।

কোভিড-১৯, হাম, ডেঙ্গু, আর এখন স্ক্যাবিস- পরপর একের পর এক সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখিয়ে দেয়, আমাদের জনস্বাস্থ্য নীতি শুধু অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল। এই ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী বাধ্য হয়েই সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন।

এমতাবস্থায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে আলাদা সংক্রামক রোগ ইউনিট স্থাপন জরুরি। এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো সংকট নিরসনে জরুরি বরাদ্দ বাড়াতে হবে। স্ক্যাবিস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও ঘন ঘন গোসল ও কাপড় পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একবার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে সব সদস্যকে একসঙ্গে চিকিৎসার আওতায় আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কনসালটেন্সি জোরদার করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলে স্বাস্থ্য পরিদর্শন বলতে বাংলাদেশে কার্যত কিছু নেই। এটি চালু করতে হবে।

স্ক্যাবিস চিকিৎসায় যেমন ওষুধ ব্যবহার হয়, তেমনি দরকার প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। কোভিড-১৯ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু সে শিক্ষা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। নতুন সরকার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছে। আমরা আশা করবো, সরকার স্বাস্থ্য সুবিধা বাড়াতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করবে, বেসরকারি বিনিয়োগে চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করবে। সর্বোপরি দরকার একটি দূরদর্শী জনস্বাস্থ্য নীতি; যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন