সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
গুণগত মান ও উজ্জ্বল রঙের কারণে দেশজুড়ে চাহিদা বাড়ছে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আমন বীজের।
চলতি মৌসুমে জেলা বিএডিসি অফিসের তত্ত্বাবধানে ৯৫২ মেট্রিকটন আমন ধানের বীজ উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। উৎপাদিত এই বীজ দেশের ২২টি অঞ্চলে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
সাতক্ষীরা বিএডিসির তথ্য মতে, সাতক্ষীরায় এবার আমন মৌসুমে ৯৫২ মেট্রিকটন বীজধান উৎপাদন করা হয়েছে। যা দেশের বিভিন্ন জেলায় এক মাসের ভেতরে পাঠানো হবে। বিশেষ করে বীজ বিপণন বিভাগের আওতায় ২২ টা অঞ্চলে এই বীজ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার বীজের চাহিদা এবং গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের সব জেলাতে এই বীজের চাহিদা অনেক বেশি।
সাতক্ষীরা বিএডিসির উপ-পরিচালক রমিজুর রহমান বলেন, আমরা সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া অঞ্চল থেকে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে এই বীজ সংগ্রহ করি। আমাদের সাতটি ব্লকে প্রায় তিনশ’ প্রশিক্ষিত চাষি রয়েছেন। তাদের ভিত্তিমানের উৎকৃষ্ট বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও ফসল কাটা পর্যন্ত আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করি। এরপর মান যাচাই করে সেই বীজ সংগ্রহ করা হয়।
বীজ উৎপাদনে সাতক্ষীরা বিএডিসি অফিসের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরার বীজের গুণগত মান এবং বীজের কালার অন্তত ভালো যার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই বীজের চাহিদা খুব বেশি। কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যথাযথ চেইন অব কমান্ড মেইনটেইন করে বীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ করা হয়। আমি এই দপ্তরে যোগদানের পর করার কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ও ছোটখাটো অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নতি সাধন করি। অত্র কেন্দ্রটি সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি দপ্তর, এখানে প্রতিদিন বিকেলে বহু লোক ঘুরতে আসে, সেই জন্য কেন্দ্রের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হয়েছে। উপযোগী প্রশিক্ষণ কক্ষ ছিল না, সেটা সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রের সকল স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি সচল রেখে বীজ সংগ্রহ কাজ চলমান।
উল্লেখ্য, এই দপ্তরটি মূলত বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য কাজ করে। এখানে সাধারণ খুচরা বীজ বিক্রির সুযোগ নেই; শুধুমাত্র চুক্তিবদ্ধ চাষিরাই বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে থাকেন।