যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার, চিকা যবিপ্রবিতে

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ মে,২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ৮ মে,২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার, চিকা যবিপ্রবিতে

রাজনীতি নিষিদ্ধ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত পোস্টার ও দেয়াল লিখন (চিকা) দেখা গেছে। কমিটি ঘোষণার জন্য কেন্দ্র থেকে সিভি চাওয়ার পর পরই এ ধরনের কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ভাবাচ্ছে।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক, মুনসী মেহেরউল্লা হল ও শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের দেয়ালে এসব লিখন দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি দ্রুতই ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করে।

দেয়াল লিখন ও পোস্টারগুলোতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ কাঁপছে’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়’, ‘যৌন হয়রানির বিচার চাই’ এবং ‘শিবিরের হাত থেকে যবিপ্রবি বাঁচাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেখা গেছে।

পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে স্বৈরাচার হাসিনার আমলের ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাচারিতা দেখেছি। তাদের নতুন কমিটির আসবে, তাই বিভিন্ন কায়দায় নিজের অবস্থান জানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জুলাই ক্যালিগ্রাফির ওপর আক্রমণ থেকে লিফলেট দিয়ে ক্যাম্পাস ভরা তারই উদাহরণ। আর যবিপ্রবিতে তারা এ সাহস পায় শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে। বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি রয়েছে, অথচ বিতাড়িতরা এসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রশাসনকে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে বুঝবো এই ছাত্রলীগ প্রশাসনের মদদপুষ্ট।’

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান নিশাত বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তারপরও যবিপ্রবিতে সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের নামে ফের কার্যক্রম চালানো হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, তাদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। প্রশাসন ব্যর্থ হলে তাদের প্রতিহত করার জন্য যবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি প্রক্টর হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ ঘটনায় হল প্রভোস্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হলগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ধরনের আলামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মুনসী মেহেরউল্লা হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী হল প্রভোস্টদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আগামীকাল জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। কে বা কারা দেয়ালে এ ধরনের লিখন করেছে, তাদের শনাক্তে কাজ করছি। বর্তমানে পঞ্চম তলা থেকে হলে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে, এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই পুরো হলকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পারি। এর সাথে কে বা কারা যুক্ত আছে তা জানার জন্য খুব দ্রুতই হলের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে।’

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত এক গেজেটে সরকার ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ এর ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ওই আইনের তফসিল-২ এ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামীয় ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করলো বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)