যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন,২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস

হিউস্টনে ম্যাচটির আগে বিশ্বকাপে একবারই সুইডেনের মুখোমুখি হয় নেদারল্যান্ডস। সেটা ১৯৭৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ডর্টমুন্ডে গোলশূন্য ড্র সে ম্যাচ স্মরণীয় ইয়োহান ক্রুইফের বিখ্যাত ‘ক্রুইফ টার্নে’র জন্য। সেদিনের মতো শনিবার হিউস্টনেও দেখা গেল নীল জার্সির সুইডেনকে। তবে ‘ক্রুইফ টার্ন’ দেখা গেল না।

যেটা দেখা গেল, সেটাও অবশ্য একরকম ‘টার্ন’ বা মোচড়ই। ৫২ বছর আগে মুখোমুখি হওয়ার সেই ফল উল্টে গোল উৎসব করেছে নেদারল্যান্ডস। উপভোগ্য এক ম্যাচে সুইডেনকে বিধ্বস্ত করেছে ৫-১ গোলে।

স্কোরলাইন দেখে সুইডেনকে বিচার করলে একটু ভুলই হবে। প্রথমার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’–এর আগপর্যন্ত খেলায় একচেটিয়া দাপট ছিল ডাচদের। ৫ ও ১৭ মিনিটে দুটি গোলও পায় তারা।

কিন্তু হাইড্রেশন ব্রেকের পর ডাচদের তটস্থ করে রেখেছিল সুইডেন। শুধু গোলটাই তারা পায়নি। বিরতির পর আবারও চাপ তৈরি করে গোল আদায় করে ডাচরা। ম্যাচের শেষ দিকে আধিপত্য ছিল সুইডেনের।

শেষ দিকে ডাচ গোলকিপার বার্ট ভারব্রুগেনের রীতিমতো পরীক্ষা নিয়েছে সুইডিশ আক্রমণভাগ। গোটা ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেন ভারব্রুগেন। দুই দলের পার্থক্য হয়েছে আসলে ফিনিশিংয়ে।

ডাচদের হয়ে জোড়া গোল করা ব্রায়ান ব্রবি ও কোডি গাকপোরা গোল করায় ভুল করেননি। সুইডিশ আক্রমণে ভিক্টর ইয়োকেরেস ও আলেকসান্দার ইসাকরা শুধু ফিনিশটাই করতে পারেননি।

এর বাইরে পরিসংখ্যানে কিন্তু আক্রমণে সুইডেনই এগিয়ে। ডাচরা ১০টি শট নিয়ে যেখানে পোস্টে রাখতে পেরেছে ৭ শট, সুইডেন সেখানে ১৬টি শট নিয়ে পোস্টে রেখেছে ৮টি। ভারব্রুগেন যে শটটি ঠেকাতে পারেননি, সেটা ম্যাচে ৫৯ মিনিটে সুইডিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি এলাঙ্গার করা গোল।

সুইডেন আসলে ম্যাচ থেকে বেশ পিছিয়ে পড়ে ৫৪ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল হজম করে। ডাচরা সম্ভবত আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে দুবার এগিয়ে গিয়েও পয়েন্ট ভাগ করার দুঃখ মোচন করতে চেয়েছিল এ ম্যাচে।

১৭ মিনিটের মধ্যে ব্রবির জোড়া গোলেই ব্যবধান হয় ২-০। পাঁচ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন গাকপোর ক্রস থেকে, পরেরটি ডেনজেল ডামফ্রিজের ক্রসে। ব্রবির দ্বিতীয় গোলটি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের শততম গোল।

বিরতির পর ৪৭ এবং ৫৪ মিনিটে দুটি গোল করেন ডাচ উইঙ্গার গাকপো। প্রথমটি ডামফ্রিজের ক্রস থেকে, পরেরটি ক্রিসেনসিও সমারভিলের পাস থেকে নিচু শটে। লিভারপুল তারকার শেষ গোলটি এবারের বিশ্বকাপে শততম গোল। ৩৩তম ম্যাচে এসে শততম গোল দেখা গেল।

১৯৫৮ বিশ্বকাপের (৩২ বা ৩৩ ম্যাচে, একই সময়ে দুটো ম্যাচ হয়) পর যেটা এই আসরে দ্রুততম এক শ গোলের নজির।

৮৯ মিনিটে সমারভিলও গোল করে ডাচদের গোল উৎসবকে পূর্ণতা দেন। অন্যদিকে গোল না পাওয়ার দুঃখে মরেছে সুইডেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এক ম্যাচে ন্যূনতম ৮টি শট পোস্টে রেখেই ন্যূনতম ৪ গোল ব্যবধানে হারল তারা।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথম ম্যাচ ন্যূনতম ৪ গোলে জিতে দ্বিতীয় ম্যাচে একই ব্যবধানে হারের অনাকাঙ্খিত রেকর্ডও গড়ল সুইডেন।

নেদারল্যান্ডস অবশ্য মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে। বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন ডাচদের। এই রেকর্ডে এর আগে ব্রাজিলের পাশে বসেছিল তারা। বিশ্বকাপে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত ছিল পেলের ব্রাজিল।

নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে সর্বশেষ হেরেছে ২০১০ আসরের ফাইনালে। এরপর ২০১৪ ও ২০২২ আসরে অংশ নিয়ে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

‘এফ’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ডাচরা। সুইডেনের বিপক্ষে জয়ে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল কোমানের দল।

সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সুইডেন। তৃতীয় জাপানের সংগ্রহ ১ ম্যাচে ১ পয়েন্ট। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারা তিউনিসিয়া কোনো পয়েন্ট না পেয়ে তলানিতে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)