বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোয় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় বন্ধের মুখে।
দেশীয় মৎস্য শিল্পকে সুরক্ষা ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির মোট শুল্কহার আগের ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
নতুন কর কাঠামোর ফলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় নতুন এলসি খোলা ও মাছ খালাসের হার দ্রুত কমে গেছে।
বাজেট ঘোষণার পরদিন থেকেই বেনাপোল কাস্টমস হাউসে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে, মাছ আমদানিতে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আমদানিতে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৮৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। একইভাবে সামুদ্রিক ও রুই জাতীয় মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের চাষিদের সুরক্ষায় পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই বেনাপোল বন্দরের আমদানি কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক ভারতীয় মাছ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এতে বন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক, পরিবহন চালক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা কমে গেছে।
মাছ আমদানিকারক রহমত আলী বলেন, নতুন বাজেটে শুল্ক ৭০ শতাংশ হওয়ায় ভারত থেকে মাছ আমদানি করে লাভ প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। প্রতি চালানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।
আরেক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে অনেক আমদানিকারক নতুন এলসি খুলছেন না। বন্দরে মাছবাহী ট্রাকের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। আমদানি কমে গেলে বাজারে মাছের সরবরাহও কমে যাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়বে। সরকারের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।
বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ ১১ মাসেই চাকার সংখ্যার ভিত্তিতে কঠোর শুল্কায়নের কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়। এখন আবার মোট শুল্ক ৭০ শতাংশ করায় অধিকাংশ আমদানিকারক নতুন এলসি খুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে মাছ আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর নয়, সরকারের রাজস্ব আদায়েও পড়বে। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। মাছ আমদানি কমে গেলে সেই ঘাটতি আরও বাড়বে। একইসঙ্গে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হতে পারে।