ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে হাতি নিয়ে ঘুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে ব্যবসায়ী, পথচারী ও দোকানিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, হাতির পিঠে বসা মাহুতের নির্দেশেই রাস্তায় চলাচলরতদের থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে হাতিটির শুঁড় এগিয়ে তোলা হচ্ছে টাকা। টাকা গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরাচ্ছে না হাতি। পথচারী, বিভিন্ন গাড়ি ও দোকানির কাছ থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এভাবেই অভিনব কৌশলে হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি।
আজিম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, রাস্তার মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে হাতি দিয়ে এভাবে চাঁদা তোলায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় হাতি দেখে ভয় পায়। তিনি বলেন, হাতি দিয়ে টাকা তোলার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলার সস্তা বাজারের রফিকুল ইসলামের মুদি দোকানে হাতি এসে শুঁড় এগিয়ে দিলো সাথে সাথে দোকানদার ১০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দেয়। টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, টাকা না দিলে দোকানের সামনে থেকে যাবে না, ঝামেলা করবে। ভয় হয় যদি কোনো ক্ষতি করে আমরা নিরুপায় হয়ে টাকা দিই।
সাইফুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, এভাবে হাতি দিয়ে চাঁদা তোলায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাতির মাহুত বলেন, সার্কাস বন্ধ থাকায় হাতির ভরণ-পোষনের জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিচ্ছেন। টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি মাহুত।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী দিয়ে সড়কে চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।