যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সেতু আছে সড়ক নাই!

প্রতিনিধি

, মণিরামপুর (যশোর)

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর,২০২৫, ১০:৪৪ পিএম
সেতু আছে সড়ক নাই!
Subornovumi

ঝাঁপা-কোমলপুর বাজার সংযোগ সড়কে ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর জরাজীর্ণ একটি সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মিত হয়েছে মে মাসে। এক কোটি ৯২ লাখ আট হাজার ২১১ টাকা ব্যয়ে ১৩ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের তত্ত্বাবধানে।
নির্মাণকাজ শেষ সম্পন্নের সাতমাস পার হলেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় অকেজো পড়ে আছে সেতুটি। ফলে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঝাঁপা বাঁওড়ের দুই পাড়ে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ।
বাঁওড়ের উপর নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরুর সময় পথচারীদের চলাচলের জন্য পাশ দিয়ে বিকল্প একটি কাঠের সেতু করে দেন ঠিকাদার। বর্ষা মৌসুমে কাঠের সেতুটি তলিয়ে যাওয়ায় কোমলপুর বাজার হতে এই পথে ঝাঁপা গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ায় কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার শুরু হলেও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাঠের সেতু দুর্বল হয়ে মাঝ বরাবর ভেঙে গেছে। ফলে পারাপারে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঝাঁপা গ্রামটি ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বৃহৎ একটি গ্রাম। তিন পাশে বাঁওড় ও একপাশে কপোতাক্ষ নদ ঘেরা এই দ্বীপ অঞ্চলে ২০ থেকে ২৫ হাজার লোকের বসবাস। ইউনিয়নের বাকি ৬ ওয়ার্ডের সাথে ঝাঁপা গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাঁওড়টি।
এই গ্রামের সাথে ইউনিয়নের অন্য এলাকার যোগাযোগর চারটি পথ আছে। দুটি পথে রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ভাসমান সেতু। একটি পথ কোমলপুর বাজার হয়ে বাঁওড়ের ওপর দিয়ে কংক্রিটের সেতু আর অন্যটি কোমলপুর বাজার হয়ে দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে মল্লিকপুর হয়ে বাঁওড়ের কংক্রিটের সেতু পার হয়ে। তারমধ্যে যাতায়াত ও ভারি যানবাহনে পণ্য পরিবহনে সহজ পথ হচ্ছে কোমলপুর বাজার হয়ে বাঁওড়ের উপর নির্মিত সেতু পারাপারে। ঝাঁপা বাজারে অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্পে যাওয়ার সহজ রাস্তাও এটি। এই পথে নতুন নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হেঁটে পথচারীরা কাঠের পুল দিয়ে যাতায়াত করলেও পণ্য পরিবহনে রয়েছে বড় ভোগান্তি।
স্থানীয় অমরেশ বিশ্বাস বলেন, কোমলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভাল হওয়ায় ঝাঁপা বাঘাডাঙ্গি অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী সেতু পার হয়ে এই বিদ্যালয়ে আসতো। সেতু ভাঙার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ওই শিক্ষার্থীরা এখন আর এই বিদ্যালয়ে যায় না। এছাড়া ঝাঁপা বাঘাডাঙ্গি পাড়ায় একটি আলিম মাদ্রাসা আছে। জোঁকা ও কোমলপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এই সেতু পার হয়ে ওই মাদ্রাসায় যায়। সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহু পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেখানে যেতে হচ্ছে।
ঝাঁপা বাঘাডাঙ্গি অঞ্চলের বাসিন্দা ইউসুফ সরদার বলেন, আমাদের অঞ্চলে প্রচুর তরকারি ও ফসল উৎপাদন হয়। সেতুতে ওঠার রাস্তা না থাকায় উৎপাদিত সবজি ও ধান বাইরের বাজারে বেচতে হলে চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হচ্ছে।
ইউসুফ সরদার আরও বলেন, বৃষ্টিতে ডুবে কাঠের পুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন আগে আমি সাইকেল নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে পড়ে শরীরের কয়েক অংশে কেটে গেছে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটুকু না হলে মানুষ যে কত কষ্টে আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। কাঠের ভাঙা সেতু পারাপারের সময় মানুষ নিচে পানিতে পড়ে আহত হচ্ছে। গাড়িঘোড়া চলাচল না থাকায় নারীরা এই পথ হেঁটে পার হওয়ার সময় মাঝপথে বসে কান্নাকাটি করে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ হয়ে এই সেতু পারাপারে সহজ হোক।
সেতুর কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, সেতুর কাজ শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। বর্ষা মৌসুমে বাঁওড়ে পানি বেশি থাকায় সেতুর দুই পাড়ে সংযোগ রাস্তা তলিয়ে ছিল। তাছাড়া মাটি না পাওয়ায় রাস্তার কাজ করা সম্ভব হয়নি।
সেতুর দুই পাড়ে ৫২৩ মিটার রাস্তায় হেরিং বন বল্ড (এইচবিবি) ইটের সলিং বসাতে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। আগামী ৬ ডিসেম্বর রাস্তা নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হবে। এরইমধ্যে কাজ শেষ না হলে সময় বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
ঠিকাদার নিশাত বসু বলেন, আমার লোক নিয়মিত সেতু এলাকায় যাচ্ছে। এতদিন মাটি না পাওয়ায় সেতুর সংযোগ রাস্তায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। এখন মাটি পাওয়া গেছে। রাস্তার কাজ শুরু করবো।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, মাটি পাওয়া যাচ্ছিল না। এজন্য সেতুর সংযোগ রাস্তার কাজ হয়নি। দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)