যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লোপাট ‘বিএনপি নেতার’

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল,২০২৬, ০১:০২ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল,২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লোপাট ‘বিএনপি নেতার’

যশোরের মণিরামপুরে দুটি ভুয়া মাদরাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের দুই মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী মোদাচ্ছের গাজী এই জালিয়াতির মূল হোতা বলে জানা গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের সুপারিশ করা তালিকার ভিত্তিতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় 'বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা' ও 'বাকোশপোল হাফিজিখানা' নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই টন জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। মূলত 'বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদরাসা' এবং 'বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদরাসা'-র নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে।

মাদরাসাপ্রধানদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই মোদাচ্ছের গাজী নিজ উদ্যোগে ইউএনও দপ্তরে আবেদন করেন।

বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তাকে অফিসে নিয়ে কৌশলে কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরে চাল বরাদ্দ হলে তাকে চাল না দিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোদাচ্ছের, যা শিক্ষক ফেরত দেন।

এমদাদুল উলুম কওমী মাদরাসার প্রধান জানান, মোদাচ্ছের তাদের কমিটির কেউ নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে দুই টন চাল পেয়েছি। সেই চাল বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি।’

তবে তিনি দাবি করেন যে, মাদরাসা প্রধানদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান অসুস্থতার কথা বলে দায় এড়িয়েছেন। অন্যদিকে, অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, সময় স্বল্পতার কারণে আবেদনগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানিয়েছেন, মোদাচ্ছের গাজীর দলীয় পদ যাচাই করা হচ্ছে। চাল আত্মসাতের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)