ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
টানা প্রায় ২৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ জনতা।
এতে ঢাকা, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং মহাসড়কের তিন দিকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির পর ঝিনাইদহ পৌরসভার ধোপাঘাটা, গোবিন্দপুর, ভুটিয়ারগাতি ও পবহাটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু পুরো একদিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শতাধিক নারী-পুরুষ ও যুবক কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
ভোগান্তির বর্ণনা দিয়ে গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মর্তুজা বলেন, ‘সোমবার রাতে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ২৬ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

এদিকে অবরোধে আটকে পড়া চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী গরুবাহী ট্রাকচালক আব্দুল হাকিম মিয়া জানান, গরমে ট্রাকে থাকা গরুগুলো ছটফট করছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দর্শনা থেকে ঢাকাগামী একটি পরিবহনের সুপারভাইজার রফিকুল ইসলামও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়ার কথা জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে এক ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি জানতে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।