জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যু
প্রতিনিধি
, লোহাগড়া (নড়াইল)
জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হান্নান খান (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার ভোররাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে ২৮ নভেম্বর সকালে নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।
এদিকে, হান্নান খানের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মিন্টু খান সমর্থিত লোকজন প্রতিপক্ষ আইয়ুব মোল্যা সমর্থিতদের কমপক্ষে ১০টি বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট করেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হান্নান খান বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের এক বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে বুড়িখালি গ্রামের আইয়ুব মোল্যা সমর্থিতদের সাথে একই গ্রামের মিন্টু খান পক্ষীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে গ্রামে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হলে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। পরে গ্রামবাসী ও স্বজনরা দ্রুত এসে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
শনিবার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান মারা যান।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’